বাংলাদেশে ওয়েবসাইট বানাতে কত টাকা লাগে? (২০২৬ সালের হালনাগাদ তালিকা)
ব্যবসার জন্য ওয়েবসাইট বানানোর কথা ভাবলেই প্রথম যে প্রশ্নটা মাথায় আসে — খরচ কত পড়বে? অথচ বাংলাদেশে এই সহজ প্রশ্নের সোজা উত্তর পাওয়াই সবচেয়ে কঠিন। কেউ বলে পাঁচ হাজার, কেউ বলে পঞ্চাশ হাজার; আবার কাজ শুরুর পর একের পর এক লুকানো চার্জ যোগ হতে থাকে। এই পেজে আমরা ২০২৬ সালের বাস্তব বাজারদর অনুযায়ী ওয়েবসাইট তৈরির খরচের পূর্ণাঙ্গ তালিকা দিয়েছি — কোনো ধোঁয়াশা নেই, কোনো লুকানো চার্জ নেই। ল্যান্ডিং পেজ থেকে শুরু করে পূর্ণাঙ্গ ই-কমার্স স্টোর কিংবা কাস্টম সফটওয়্যার — প্রতিটির দাম, ডেলিভারির সময় আর কী কী পাবেন, সব এক জায়গায়। লেখাটা পড়া শেষে আপনি নিজেই হিসাব করতে পারবেন আপনার ব্যবসার জন্য কোন প্যাকেজটা যথেষ্ট, আর কোথায় বাড়তি টাকা খরচ করার কোনো দরকারই নেই।
ওয়েবসাইট তৈরির খরচ কত?
সংক্ষেপে বললে, DIPTAIT-এ একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট শুরু হয় মাত্র ৳৬,০০০ থেকে। নিচের তালিকায় ২০২৬ সালের হালনাগাদ মূল্য একনজরে দেখে নিন:
| প্যাকেজ | কী কী থাকবে | মূল্য | ডেলিভারি |
|---|---|---|---|
| ল্যান্ডিং পেজ | এক পেজ, মোবাইল-রেসপন্সিভ, কন্ট্যাক্ট ফর্ম | ৳৬,০০০ | ১-২ দিন |
| বিজনেস ওয়েবসাইট | ৫-৭ পেজ, SEO অপটিমাইজড | ৳১০,০০০ | ৩-৫ দিন |
| ই-কমার্স স্টোর | পণ্য তালিকা, bKash/Nagad পেমেন্ট, অ্যাডমিন প্যানেল | ৳১৫,০০০ | ৫-৭ দিন |
| কাস্টম SaaS / এন্টারপ্রাইজ | পূর্ণ ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন | ৳১,০০,০০০+ | প্রজেক্ট অনুযায়ী |
প্রতিটি প্যাকেজেই মোবাইল-রেসপন্সিভ ডিজাইন, দ্রুত লোডিং স্পিড আর বেসিক SEO সেটআপ অন্তর্ভুক্ত। রেডিমেড টেমপ্লেট কিনে শুধু লোগো বসিয়ে দেওয়া নয় — প্রতিটি সাইট শূন্য থেকে কোড করে বানানো হয়, তাই ডিজাইন সম্পূর্ণভাবে আপনার ব্যবসার চেহারা অনুযায়ী সাজানো যায়।
কম খরচে ভালো ওয়েবসাইট কি সম্ভব?
হ্যাঁ, সম্ভব — তবে শর্ত একটাই: কাজের পদ্ধতিটা আধুনিক হতে হবে। বাজারে কম দামের নামে যা বিক্রি হয় তার বেশিরভাগই রেডিমেড টেমপ্লেট — দেখতে সবার সাইটের মতো, গুগলে র্যাঙ্ক করে না, আর বছর ঘুরতেই নতুন করে বানাতে হয়। অন্যদিকে পুরোনো ধাঁচের এজেন্সিগুলো কাস্টম কাজের জন্য লাখ টাকার কাছাকাছি দাম হাঁকে, কারণ তাদের বড় টিম আর অফিস খরচের ভার ক্লায়েন্টের ঘাড়েই পড়ে।
DIPTAIT মাঝের এই ফাঁকটা পূরণ করে AI-assisted development দিয়ে। অভিজ্ঞ ডেভেলপারের তত্ত্বাবধানে AI টুল ব্যবহার করে কোড লেখা হয় — ফলে কাজ হয় কয়েক গুণ দ্রুত, অথচ প্রতিটি লাইন থাকে কাস্টম, টেমপ্লেটের ছিটেফোঁটাও নেই। খরচ কমে আসে, মান কমে না। বাস্তব প্রমাণ চান? নুরী ফ্যাশনের কথাই ধরুন — মাত্র ৳১৫,০০০ বাজেটে bKash পেমেন্টসহ পূর্ণাঙ্গ ই-কমার্স স্টোর, অর্ডার নেওয়া শুরু করেছে মাত্র ২ দিনের মাথায়। প্রচলিত এজেন্সিতে একই কাজে সময় লাগত কয়েক সপ্তাহ, খরচ পড়ত কয়েক গুণ বেশি।
ওয়েবসাইটের খরচ কোন কোন বিষয়ের উপর নির্ভর করে?
একই ধরনের দুটো ওয়েবসাইটের দামেও পার্থক্য হতে পারে। চূড়ান্ত খরচ মূলত পাঁচটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে:
- পেজের সংখ্যা — এক পেজের ল্যান্ডিং সাইট আর দশ পেজের কর্পোরেট সাইটের কাজের পরিমাণ এক নয়।
- পেমেন্ট গেটওয়ে — bKash, Nagad বা কার্ড পেমেন্ট যুক্ত করতে বাড়তি ইন্টিগ্রেশনের কাজ লাগে।
- কাস্টম ফিচার — লগইন সিস্টেম, বুকিং, লাইভ চ্যাট বা ড্যাশবোর্ডের মতো ফিচার খরচ বাড়ায়।
- ডোমেইন ও হোস্টিং — এগুলো ডেভেলপমেন্ট খরচের বাইরে আলাদা বার্ষিক চার্জ।
- ডিজাইনের জটিলতা — সাধারণ পরিচ্ছন্ন ডিজাইনের চেয়ে অ্যানিমেশনসহ বিশেষ ডিজাইনে সময় বেশি লাগে।
তাই দাম জানতে চাওয়ার আগে নিজের চাহিদার তালিকাটা পরিষ্কার করে নিন — তাহলে কোটেশন মেলানো সহজ হবে, আর অপ্রয়োজনীয় ফিচারের পেছনে টাকাও যাবে না।
ডোমেইন ও হোস্টিং-এর খরচ
ওয়েবসাইট বানানোর খরচের সঙ্গে ডোমেইন আর হোস্টিংয়ের খরচ গুলিয়ে ফেলবেন না — এ দুটো আলাদা বার্ষিক চার্জ। একটি .com ডোমেইনের দাম বছরে প্রায় ৳১,২০০, আর দেশীয় .com.bd ডোমেইন পড়ে বছরে প্রায় ৳১,৪০০। হোস্টিংয়ের খরচ নির্ভর করে সাইটের ধরন আর ভিজিটরের চাপের উপর — তবে আধুনিক প্ল্যাটফর্মে ছোট ও মাঝারি ব্যবসার সাইট প্রায় বিনা খরচেই চালানো যায়। DIPTAIT দুটো সেটআপেই সহায়তা করে, আর ডোমেইনের মালিকানা সবসময় থাকে আপনার নিজের নামে।
বাস্তব প্রজেক্টের উদাহরণ
কাগজে-কলমে দাম দেখানো সহজ, কিন্তু আসল প্রমাণ হলো লাইভ প্রজেক্ট। নুরী ফ্যাশন একটি পূর্ণাঙ্গ ই-কমার্স স্টোর — পণ্যের ক্যাটালগ, অর্ডার ম্যানেজমেন্ট আর bKash পেমেন্টসহ সাইটটি লাইভ হয়েছে মাত্র ২ দিনে। উজেবং একটি কমিউনিটি সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম — সদস্যদের প্রোফাইল, পোস্ট আর আলোচনার সুবিধাসহ পুরো প্ল্যাটফর্মটি তৈরি হয়েছে ৫ দিনে। আর DiptaPOS হলো একটি মাল্টি-টেন্যান্ট SaaS POS সিস্টেম, যেখানে একাধিক দোকান একই প্ল্যাটফর্মে নিজেদের বিক্রি, স্টক আর হিসাব সামলায় — অর্থাৎ ছোট ল্যান্ডিং পেজ থেকে জটিল সফটওয়্যার, সব ধরনের কাজেরই বাস্তব নজির আছে।
DIPTAIT একটি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান (ট্রেড লাইসেন্স: TRAD/DNCC/143472/2022), অফিস মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭। ফলে চুক্তি, রসিদ আর ডেলিভারি-পরবর্তী সাপোর্ট — সবকিছুই হয় স্বচ্ছভাবে, নাম-ঠিকানাসহ দায়বদ্ধতার সঙ্গে।